গৃহ ও গৃহ পরিবেশের প্রাথমিক ধারণা (প্রথম অধ্যায়)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান - ক বিভাগ- গৃহ ও গৃহ ব্যবস্থাপনা | NCTB BOOK
2.1k
Please, contribute by adding content to গৃহ ও গৃহ পরিবেশের প্রাথমিক ধারণা.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

চাষাবাদ শেখার পরে
বিজ্ঞানে উন্নতি করার পরে
লোহার ব্যবহার শেখার পর
আগুন আবিষ্কারের পরে

গৃহ ও গৃহ পরিবেশ (পাঠ ১)

2k

গৃহ- তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ যে, আদিম যুগের মানুষ আমাদের মতো গৃহে বাস করত না। হিংস্র বন্য প্রাণীর আক্রমণ এবং ঝড়, বৃষ্টি, শীত-তাপ ইত্যাদির কবল থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা শুধু একটা আশ্রয়স্থল খুঁজে নিত। এই আশ্রয়স্থলগুলো ছিল বন জঙ্গল, বড় গাছ, পাহাড়ের গুহা ইত্যাদি।
পরবর্তীতে মানুষ ধীরে ধীরে যখন চাষাবাদ শিখল, তখন তারা একত্রিত হয়ে পরিবার গঠন করল। পরিবারের সদস্যদের বসবাসের জন্য তারা গৃহের প্রয়োজন অনুভব করল এবং গৃহ নির্মাণ করতে শিখল। এভাবে গৃহের সূচনা হলো।

আমরা বলতে পারি, গৃহ এমন একটা স্থান যেখানে আমরা পরিবারবদ্ধ হয়ে বাস করি। গৃহ আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা আমাদের বিভিন্ন রকম চাহিদা পূরণের জন্য সারাদিন নানারকম কাজে ব্যস্ত থাকি। কাজের শেষে বিশ্রাম ও আরামের জন্য আমরা গৃহে ফিরে আসি। ফলে আমাদের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। গৃহে আমাদের খাদ্য, বস্ত্র ও পোশাক পরিচ্ছদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বিনোদন, বিভিন্ন শখ ইত্যাদি চাহিদা পূরণ হয়। এখানে সবার প্রতি সবার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা থাকার ফলে পারিবারিক বন্ধনটাও মজবুত হয়।

গৃহ পরিবেশ- প্রতিটি মানবশিশুর জীবনের প্রথম পরিবেশ হলো গৃহ। আশেপাশের সবকিছু নিয়ে গৃহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গৃহের ভিতরে ও বাইরের সব অংশ নিয়েই গড়ে ওঠে গৃহ পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের সুখ, শান্তি এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নির্ভর করে গৃহ পরিবেশের উপর।

গৃহ পরিবেশের মধ্যে থাকে-

  • বিভিন্ন ঘর বা কক্ষ
  • ছাদ/চালা
  • বারান্দা
  • আঙিনা ইত্যাদি

পরিবারের সদস্যদের সবরকম বিকাশের জন্য সুন্দর একটি গৃহ পরিবেশ দরকার। আমরা সবাই শিশুকাল থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত এই পরিবেশেই বসবাস করি, তাই ব্যক্তি জীবনে গৃহ পরিবেশের প্রভাব অনেক। এখান থেকেই আমাদের বিভিন্ন অভ্যাস, রুচিবোধ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ গড়ে ওঠে। গৃহ পরিবেশের মধ্যে অবস্থান করে আমরা বিভিন্ন রকম কাজে অংশগ্রহণ করে থাকি। ফলে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ গড়ে ওঠে। আর তাই গৃহ পরিবেশটাও হওয়া দরকার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য-সম্মত এবং সুশৃঙ্খল। তাহলেই গৃহের মানুষগুলো সুস্থ ও সুশৃঙ্খল হয়ে গড়ে উঠবে যা আদর্শ জাতি গঠনে সহায়ক হবে। গৃহের সব পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূষণ মুক্ত রাখা দরকার। সেজন্য গৃহে যে সব ব্যবস্থা থাকতে হবে-

  • সূর্যের আলো প্রবেশ ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা।
  • বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।
  • গৃহের ভিতরে ও বাইরে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।
  • ময়লা পানি ও মলমূত্র নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখা।
  • গৃহে সৃষ্ট ধোঁয়া নির্গমনের ব্যবস্থা থাকা।
  • গৃহের আঙিনায় জায়গা থাকলে সেখানে ছোট-বড় গাছ এবং প্রয়োজনে টবে বিভিন্ন গাছ লাগানো ।

শহর ও গ্রামে গৃহের ধরন আলাদা হয়। শহরে পাকা বাড়ি তৈরি হয় ইট, বালু, সিমেন্ট, রড ইত্যাদি দিয়ে।
আর গ্রামে সাধারণত কাঁচা বাড়ি দেখা যায়। যেগুলো টিন, কাঠ, বাঁশ, মাটি ইত্যাদি দিয়ে তৈরি।

কাজ ১- গৃহের পরিবেশ রক্ষায় তুমি কী কী করতে পারো, তার একটা তালিকা তৈরি করো।
কাজ ২- গ্রামের একটি গৃহ ও শহরের একটি গৃহের তুলনা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

রুমা পড়াশোনায় খুব ভালো। তার আচরণ সকলকে মুগ্ধ করে। তাদের গৃহ পরিবেশ অত্যন্ত গোছানো। ফলে সে আনন্দময় পরিবেশে সময় কাটায়।

উন্নত শিক্ষা
চিত্ত বিনোদন
সুশৃঙ্খল গৃহ পরিবেশ
সলো স্বাস্থ্য

গৃহের অভ্যন্তরীণ স্থানের বিন্যাস (পাঠ ২)

1.2k

আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি যে, আমাদের গৃহে বিভিন্ন রকম স্থান আছে। গৃহে প্রবেশ করার দরজা থেকে শুরু করে বারান্দা, বিভিন্ন ঘর, বাগান, গাড়ি বারান্দা ইত্যাদি সবই গৃহের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন স্থান। গৃহে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হয়। এক এক ধরনের কাজ এক এক জায়গায় করা হয়ে থাকে। গৃহের বিভিন্ন কক্ষ বা স্থানের বিন্যাস এই কাজের উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। যেমন- রান্না, খাওয়া দাওয়া, গোসল, পড়ালেখা, সাজসজ্জা, বিশ্রাম, ঘুমানো, অতিথি আপ্যায়ন ইত্যাদি। এই কাজগুলো প্রত্যেকটাই আলাদা ধরনের। ফলে এই কাজের স্থানগুলোও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

গৃহের কাজের উপর ভিত্তি করে গৃহের অভ্যন্তরীণ স্থানকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। আনুষ্ঠানিক স্থান
২। অনানুষ্ঠানিক স্থান
৩। কাজের স্থান

আনুষ্ঠানিক স্থান- আনুষ্ঠানিক স্থান বলতে বোঝায় যেখানে আনুষ্ঠানিক কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়। এখানে আমরা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করি। আমাদের গৃহে কোনো অতিথি, বন্ধু বান্ধব এলে আমরা আনুষ্ঠানিক স্থানগুলোতে তাদের অভ্যর্থনা জানাই, আপ্যায়ন করি। কখনও কখনও তাদের থাকার ব্যবস্থা করে থাকি।

এই স্থানগুলোর মধ্যে আছে-

  • বসার ঘর বা ড্রইং রুম
  • খাওয়ার ঘর
  • অতিথি ঘর
  • গাড়ি বারান্দা
  • সিঁড়ি ইত্যাদি।

অনানুষ্ঠানিক স্থান- অনানুষ্ঠানিক স্থান বলতে বোঝায় সাধারণত আমরা যে স্থানগুলোতে ব্যক্তিগত বা একান্ত নিজের কাজগুলো করে থাকি। এখানে আমরা বিশ্রাম নেই, ঘুমাই, পড়াশোনা করি, সাজসজ্জা করি ইত্যাদি। এই স্থানগুলোতে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরাই তাদের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে থাকে। তাই এখানে কিছুটা গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। অনানুষ্ঠানিক স্থানগুলোর মধ্যে পড়ে-

  • শোবার ঘর
  • পড়ার ঘর
  • সাজসজ্জার ঘর ইত্যাদি।

কাজের স্থান- এই স্থানে প্রতিদিন গৃহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হয়ে থাকে। যেমন- রান্না করা, বিভিন্ন রকম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, বিভিন্ন দ্রব্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা ইত্যাদি।
রান্নার কাজের মধ্যে খাবার রান্নার জন্য প্রস্তুতি অর্থাৎ কোটা, বাছা, ধোওয়া, মসলা বাটা ইত্যাদি থেকে শুরু করে রান্না করা সবই থাকে। তাছাড়া খাবার পরিবেশন করার জন্য বাসনপত্র, গ্লাস, জগ, চামচ, ছুরি, কাঁটা চামচ, টেবিল ম্যাট ইত্যাদি যথাযথভাবে রাখার কাজগুলো হয়ে থাকে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে কাপড়-চোপড় ধোওয়া, ইস্ত্রি করা, ঘর মোছা বা লেপা, সিলিং, দরজা- জানালার গ্রিল ও কাঁচ, বাথরুম, টয়লেট, ঘরের আঙিনা ইত্যাদি পরিষ্কার করা। কাজের স্থানগুলো হলো-

  • রান্না ঘর
  • বাথরুম ও টয়লেট
  • ভাঁড়ার ঘর বা চাল, ডাল শস্য ইত্যাদি সংরক্ষণের স্থান
  • কাপড়, তৈজসপাতি বা বাসন পেয়ালা ধোয়ার স্থান
  • কোটা-বাছার স্থান
কাজ ১- তোমার বাড়িতে তোমার বন্ধু পরিবারসহ বেড়াতে এলে তাকে কোথায় কীভাবে অভ্যর্থনা করবে?
কাজ ২- বাড়ির অনানুষ্ঠানিক স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কী কী কাজ করা হয় লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

একটি পরিবারের সদস্যরা গৃহের অভ্যন্তরীণ কিছু স্থানে তাদের ব্যক্তিগত কাজগুলো করে থাকে। এই স্থানগুলোতে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

প্রয়োজনীয় জিনিস যথাস্থানে সংরক্ষণ (পাঠ ৩)

1k

শাহেদ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা গোছায়। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে এসে স্কুলের ব্যাগ, বই, খাতা, জামা-প্যান্ট, জুতা-মোজা ইত্যাদি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখে। প্রতিদিন পড়ালেখা শেষ করে বই, খাতা, পেন্সিল, কলম সব গুছিয়ে রাখে। বিকেলে খেলা শেষে খেলার সামগ্রীগুলো ঠিক জায়গায় রাখে। ফলে প্রয়োজনের সময় সে সবকিছু হাতের কাছে পায়। প্রত্যেকটা জিনিসের ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। তাই পরিবারের সবাইকে ব্যবহারের পর জিনিসগুলো যথাস্থানে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করতে হবে। জিনিসপত্র যথাস্থানে যত্ন সহকারে রাখলে সেগুলো টেকসই হয়। গৃহের পরিবেশ থাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। প্রয়োজনের সময় সেগুলো সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। ফলে খোঁজাখুঁজিতে অযথা সময় ও শক্তি অপচয় হয় না। এছাড়া জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে গৃহের সৌদর্য নষ্ট হয় ও বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থাকে।

গৃহের বিভিন্ন রকম কাজের সুবিধার জন্য আমরা অনেক রকম সাজসরঞ্জাম ও উপকরণ ব্যবহার করে থাকি। যেমন-

রান্না ও খাবার পরিবেশনের সরঞ্জাম- হাঁড়ি, কড়াই, খুন্তি, চামচ, বঁটি, ছুরি, প্রেসার কুকার, ব্লেন্ডার, ওভেন, চুলা ইত্যাদি। এর মধ্যে যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার হয়, সেগুলো রান্না ঘরের তাকে হাতের কাছে রাখা ভালো। আর যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার হয় না, সেগুলো কেবিনেট বা উপরের দিকে রাখা হয়। খাবার পরিবেশনের জন্য প্লেট, গ্লাস, জগ, চামচ, কাঁটাচামচ, ট্রে ইত্যাদি খাবার ঘরে তাকে সাজিয়ে রাখতে পারি।

সেলাইয়ের সরঞ্জাম-এর মধ্যে প্রধান হলো সেলাই মেশিন যা আমরা ঘরের যেকোনো একটা কোনায় রেখে থাকি। সূচ, কাঁচি, ফিতা, বোতাম, সুতা, ইত্যাদি উল্লিখিত অন্যান্য উপকরণ গুলো একটা বাক্সে করে মেশিনের কাছে রাখি।

বাগান করার সরঞ্জাম- ঝাঁঝরি, পানির পাইপ, শাবল, কোদাল, দা, কাঁচি ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটা কোণে নির্দিষ্ট তাকে অথবা স্টোর রুমেও রাখা যায়।

লন্ড্রির সরঞ্জাম- বালতি, মগ, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি। এগুলো বাথ রুমে রাখা হয়। ইস্ত্রিটা ইস্ত্রির বোর্ডের সাথে রাখা যায়।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম- ঝাড়ু, ঝুলঝাড়ু, ঘরমোছার সামগ্রী, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ইত্যাদি। এগুলো আমরা স্টোর রুমের একটা কোনায় রাখতে পারি।

পোশাক-পরিচ্ছদ- দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাক-পরিচ্ছদগুলো আমরা আলনা বা ওয়াড্রোবে রাখি। উৎসবে পরার পোশাক বা মৌসুমি পোশাকগুলো আমরা আলমারিতে বা বাক্সে রাখি। এছাড়া জুতা, স্যান্ডেল, মোজা ইত্যাদি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার অভ্যাস করা উচিত। এগুলো রাখার জন্য আলনার নিচের তাক বা জুতার তাক ব্যবহার করতে পারি।

পড়ালেখার উপকরণ- পড়ালেখার উপকরণগুলো যেমন বই, খাতা, কলম ইত্যাদি পড়ার টেবিলের কাছে কোনো তাকে গুছিয়ে রাখি। তাক না থাকলে টেবিলের উপরেও সেগুলো গুছিয়ে রাখতে পারি।

প্রসাধন সামগ্রী- সাজসজ্জার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করি। যেমন- সাবান, শ্যাম্পু, চিরুনি, স্নো-পাউডার, কোল্ড ক্রিম, লিপস্টিক, পারফিউম, শেভিং ব্রাশ, রেজার ইত্যাদি। এগুলো ড্রেসিং টেবিল বা ড্রেসিং রুমের কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে সুবিধা হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ- তুলা, ব্যান্ডেজ, ডেটল, গরম বা বরফ পানির ব্যাগ, স্পিরিট, বার্নল, ব্যথা কমার ওষুধ, অ্যান্টিসেপটিক পাউডার বা মলম ইত্যাদি। এগুলো আমরা একটা নির্দিষ্ট বাক্সে রাখি, যাকে বলে 'প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স'। এটা একটু উঁচু স্থানে রাখতে হয়। তবে তা যেন সবাই দেখতে ও জানতে পারে।

বিবিধ- বিবিধ জিনিসের মধ্যে আছে- পুরনো খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি। এ জিনিসগুলো যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না থাকে, সেজন্যে কোনো বাক্সের ভিতরে রেখে দিতে পারি। যাতে ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট না হয়।

কাজ- ১ প্রতিদিন তুমি যে সব জিনিস ব্যবহার করো, সেগুলো কোথায় রাখো-তার একটা তালিকা করো।
কাজ-২ তোমার বাসার প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্সে কী কী থাকা দরকার সেগুলো লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

ছোট ভাইয়ের হাত পুড়ে গেলে সোহানা শোকেসের উপর থেকে একটি বাক্স এনে সেখান থেকে বার্ণল বের করে লাগিয়ে দিলো।

ঔষধের বাক্স
প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স
সেলাইয়ের সরঞ্জামের বাক্স
প্রসাধন সামগ্রীর বাক্স

গৃহ পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনে গাছ (পাঠ ৪)

1.6k

সুমি তার বাবার সহায়তায় বাড়ির ছোট প্রাঙ্গণে শাক সবজি ও ফলের বাগান করেছে। আর বারান্দায় টবে ফুলের গাছ লাগিয়েছে। প্রতিদিন সে গাছগুলোতে পানি দেয়, আগাছা পরিষ্কার করে। নিজ হাতে শাক সবজি, ফল তুলে আনে। টাটকা শাক সবজি, ফল খেয়ে ওদের পরিবারের সবার স্বাস্থ্য ভালো ও মন প্রফুল্ল থাকে।

সুমির মতো আমরাও গৃহ ও গৃহের পরিবেশ উন্নত করার জন্য বিভিন্ন রকম গাছ লাগাতে পারি। শহরে আমরা ফ্ল্যাট বাড়ির বারান্দা ও ছাদে টবে বিভিন্ন রকম গাছ লাগাতে পারি। গাছ থেকে আমরা অনেক উপকার পাই। যেমন-

  • গাছ আমাদের অক্সিজেন জোগায়, যা আমরা শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে নিয়ে থাকি।
  • শাকসবজি ও ফল গাছ পরিবারের সদস্যদের পুষ্টি জোগায়।
  • ফুল গাছ গৃহের শোভা বাড়ায়।
  • বড় গাছ বাড়িতে ছায়া দেয়, পরিবেশকে আরামদায়ক করে।

অনেক বাড়িতে খোলা প্রাঙ্গণ থাকে। সে জায়গাগুলোকে পরিষ্কার করে বাড়ির সামনের অংশে ফুলের বাগান ও পিছনের অংশে সবজি, ফলের বাগান করা যায়।

টবে ও গৃহের আঙিনায় গাছ লাগানো ও পরিচর্যা

টবে বা আঙিনায় দুইভাবে গাছ লাগানো যায়-

  • বীজ পুঁতে
  • চারা গাছ লাগিয়ে।

আঙিনায় গাছ লাগানোর জন্য প্রথমে জায়গাটাকে প্রস্তুত করে নিতে হয়। আঙিনা হলে আগাছা পরিষ্কার করে, কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটি আলগা ও সমতল করে দিতে হবে। মাটির উর্বরতার জন্য মাটিতে গোবর বা জৈব সার মেশাতে হয়। এর পর বীজ বা চারা রোপণ করতে হয়। আঙিনায় ছোট, বড় সব গাছই লাগানো যায়। এখানে আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারি, পেয়ারা ইত্যাদি গাছ লাগাতে পারি। তাছাড়া বিভিন্ন মৌসুমি শাক সবজির চাষও করা যায়।

আঙিনা না থাকলে ছোট বড় টবে বিভিন্ন সবজি, কলম করা গাছ, বিভিন্ন মৌসুমি ফুল লাগানো যায়। এই ক্ষেত্রে টবের মাঝে ছিদ্র বরাবর একটি মাটির চাড়া রাখতে হবে। তার উপর ইটের খোয়া ও শুকনা পাতা রেখে সারযুক্ত মাটি এমনভাবে ভরতে হবে যাতে টবের উপর দিকে ২ ইঞ্চি পরিমাণ খালি থাকে।
বীজ থেকে চারা গজালে নিয়মিত গাছে পানি দিতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও থাকা দরকার। মাঝে মাঝে চারার গোড়ার মাটি নিড়ানির সাহায্যে আলগা করে দিতে হয়। এতে মাটিতে সূর্যের আলো, বাতাস প্রবেশ করতে পারে এবং মাটির রস ধারণ ক্ষমতা বাড়ে।

গাছের গোড়ায় কোনো আগাছা হলে, তা সাথে সাথে তুলে ফেলতে হবে। কারণ আগাছা গাছের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। অনেক সময় গাছে পোকা মাকড়ের উপদ্রব দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
সুতরাং তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ যে ভালো গাছের জন্য প্রয়োজন-

  • সতেজ চারা বা পুষ্ট বীজ
  • আলো, বাতাস, পানি
  • সারযুক্ত ভালো মাটি
  • নিয়মিত পরিচর্যা
কাজ ১- টবে একটা ফল গাছ লাগানোর পদ্ধতি বর্ণনা করো।
কাজ ২- গাছের নিয়মিত পরিচর্যা বলতে তুমি কী কী করণীয় মনে করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

বৃক্ষমেলা থেকে এশা বেশ কিছু ফুলের চারা কেনে। কিন্তু বাড়িতে জায়গা না থাকায় তার বাবা চারাগুলো অন্যভাবে লাগানোর পরামর্শ দিলেন। এছাড়া তিনি গাছের উপকারিতা সম্পর্কে বলেন।

অনুশীলনী

575
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. নিচের কোনটি আনুষ্ঠানিক স্থান?
ক. খাওয়ার ঘর
খ. শোবার ঘর
গ. পড়ার ঘর
ঘ. সাজসজ্জার ঘর

২. আদিম মানুষের পরিবার গঠনের কারণ-
i. আশ্রয়স্থলের নিরাপত্তা
ii. একত্রে চাষাবাদের সুবিধা
পারস্পরিক সহযোগিতা পাওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও
অনিতা নামকরা নার্সারি থেকে একটি মরিচের চারা কিনে আনল। তারপর মাটি ভর্তি টবে রোপণ করে তার পড়ার ঘরে রাখল। সেই সাথে মরিচ গাছের রোগবালাই দমনে কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় তাও জানল। অনিতা গাছে নিয়মিত পানি দিত। তারপরও গাছটির যথাযথ বৃদ্ধি হলো না এবং মরিচও ধরল না।
৩. গাছটি বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণ কী?
ক. উপযুক্ত কীটনাশকের অভাব
খ. পর্যাপ্ত আলো বাতাসের অভাব
গ. অপুষ্ট চারা রোপণ
ঘ. টবে চারা লাগানো

8. অনিতার গাছের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য দরকার-
i. পর্যাপ্ত সার ব্যবহার করা
ii. টবটি বারান্দায় নিয়ে রাখা
iii. পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া
ক. i ও ii
খ. ii ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন
১.
রাইয়ানের মাকে কিছুদিন পর পর রাইয়ানের জন্য খাতা, পেন্সিল, রাবার, খেলার বল কিনে দিতে হয়। একদিন খেলার মাঠ থেকে ফিরে রাইয়ান তার ব্যাট বল জুতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখলে তাতে হোঁচট খেয়ে তার ছোট বোন রুপার কপাল কেটে যায়।
ক. শিশুর জীবনের প্রথম পরিবেশ কোনটি?
খ. প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কী বোঝায়?
গ. রাইয়ানের কোন অভ্যাসের জন্য রুপা ব্যথা পেল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রাইয়ানের এ ধরনের অভ্যাস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব ফেলে? বুঝিয়ে লেখো

২.

ক. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কী করতে হয়?
খ. গৃহের অনানুষ্ঠানিক স্থান বলতে কী বোঝায়?
গ. ২নং চিত্রের গৃহ পরিবেশটি কেমন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ১নং চিত্রের গৃহ পরিবেশটি পরিবারের সদস্যদের 'সুস্থ' বিকাশের জন্য প্রধান অন্তরায়। বুঝিয়ে লেখো।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...